Monday, March 11, 2013

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদাহানি করছে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বক্তারা - ইত্তেফাক রিপোর্ট


ঢাকা, সোমবার, ১১ মার্চ ২০১৩, ২৭ ফাল্গুন ১৪১৯, ২৮ রবিউস সানি ১৪৩৪

'হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। একে বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু হরতালের দোহাই দিয়ে হত্যা কখনই সমর্থনযোগ্য নয়'

দেশের সংখ্যালঘুদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে বক্তারা বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা হানি করছে। তাই এ ধরনের হামলা ও সহিংসতা বন্ধে সব দলের সহায়তায় সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যাতে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা যায়। 

শনিবার বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের সতেরতম পর্বে এসব কথা বলেন বক্তারা। বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির প্রেসিডেন্ট এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন, সাবেক মন্ত্রী এবং বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মোহসিন।

রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে সংখ্যালঘুদের উপর হালা প্রসঙ্গে একজন দর্শকের প্রশ্নের জবাবে এম. কে আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশের মতো অসাম্প্রদায়িক দেশ আর নেই। তবে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাকে রাজনীতিকরণ না করে, সুনির্দিষ্টভাবে এর বিচার করতে হবে। সরকার উদ্যোগী হলে আমরা সাহায্য করবো। যে দল বা ব্যক্তির যোগসাজশেই এ ধরনের ঘটনা ঘটুক তার আইনানুগ বিচারও আমরা চাই। ঢালাওভাবে কোনো দলকে এ জন্য দোষ দিয়ে সরকার পার পেতে পারে না। 

এ প্রসঙ্গে আমেনা মোহসিন বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা বাংলাদেশকে একটি সহিংস রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দিচ্ছে বহির্বিশ্বে। তা থেকে বের হওয়ার জন্য সরকার এবং নাগরিক সমাজ দুই পক্ষকেই উদ্যোগী হতে হবে। এ জন্য জামায়াতকে দায়ী করা হলেও সরকারকে এ ব্যাপারে তদন্ত করতে হবে। জামায়াত ছাড়াও আরো অনেক মহল জড়িত থাকতে পারে। 

রাশেদ খান মেনন বলেন, এটা হঠাত্ কোন ঘটনা নয়। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জন্য বহুদিন থেকেই ধারাবাহিকভাবে এমন প্রচেষ্টা চলছে। সংঘবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রচারণায় নামতে হবে। কারণ সংগঠিত হয়ে কোথাও হামলা চালালে সরকারের আর করার কিছুই থাকে না।

প্রতিবাদি পক্ষগুলোর কাছে পলিশের মার খাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা বলেন, পুলিশকে আঘাত করলে সরকারকে আঘাত করা যায়, তাছাড়া সহিংসতায় উস্কানি হিসেবেও পুলিশের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে এম. কে আনোয়ার বলেন, বর্তমানের সহিংসতাগুলোতে পুলিশ ছাড়াও অনেকে মারা যাচ্ছে। পুলিশ যদি নিরপেক্ষ আচরণ করতো তবে পুলিশের সহায়তা অনেকেই এগিয়ে আসতো। পুলিশের মার খাওয়া প্রসঙ্গে আমেনা মোহসিন বলেন, পুলিশের উপর হামলা মানে সরকারের উপর অনাস্থা। কারণ পুলিশ তাদেরই প্রতিনিধিত্ব করে।

সরকার ও বিরোধীদলের পরস্পরবিরোধী আচরণ দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এম কে আনোয়ার বলেন, এতদিন পর্যন্ত আমরা সরকারকে সময় দিয়েছি। তারপর আন্দোলনে নেমেছি। তারপরও এর সমাধান হতে পারে আলোচনার মাধ্যমেই। আমরা সুনির্দিষ্ট এজেন্ডায় আলোচনায় বসতে রাজি সরকারের সাথে।

নুরুল হুদা বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অনিবার্য ছিল। কারণ কোনো দলই তাদের নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে প্রস্তুত নয়। যেহেতু আমরা একে অপরকে বিশ্বাস করি না। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন। 

আমেনা মোহসিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে একমত হয়ে নির্বাচনের দিকে এগোনো উচিত। 

আইন করে হরতাল নিষিদ্ধ সঠিক হবে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। একে বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু হরতালের দোহাই দিয়ে হত্যা কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। 

আমেনা মোহসিন বলেন, হরতাল একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। একে নিষিদ্ধ করার কোন কারণ নেই। তবে সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা বলেন, বর্তমানের আধুনিক বিশ্বে হরতাল কোন গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে না। এটা আত্মহত্যা।


No comments:

Post a Comment